মঙ্গলবার, ১৪ Jul ২০২৬, ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন, ভোটের তারিখ পরিবর্তনে আ’লীগের আপত্তি নেই: ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরস্বতী পূজার কারণে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করলে আওয়ামী লীগ বা সরকারের কোনো আপত্তি নেই।

তবে তারিখ পরিবর্তনের এখতিয়ার সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের। তিনি বলেন, ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নির্বাচন কমিশন তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনাসাপেক্ষে একটি সম্মানজনক সমাধানে পৌঁছাবেন বলে আমি মনে করি।

শুক্রবার সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর মুলতবি সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় এদিন কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে পূজার দিনে ভোট গ্রহণের বিষয়টিও ছিল।

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং তারিখ প্রসঙ্গে ড. কামাল হোসেনের বক্তব্যের সমালোচনা করে কাদের বলেন, পূজার দিনে ভোটের তারিখ কিন্তু আমরা নির্ধারণ করিনি। নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, এ বিষয়টির এখতিয়ার তাদেরই। কবে সিডিউল, কবে তারিখ- এটা নির্বাচন কমিশনই দেখবে। এখানে সরকারের কিছু নেই। কাজেই সরকার এখানে অন্যায় করেছে, এ কথার যৌক্তিকতা খুঁজে পাওয়া যায় না।

সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, অবিলম্বে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় শৃঙ্খলা কমিটি তাদের চাপ প্রয়োগ করবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়ে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতি নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে মন্তব্য করেছেন তা বিভ্রান্তিকর। কারণ তিনি নিজেও ইভিএম পদ্ধতিতে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন বগুড়া সদর আসন থেকে। সর্বশেষ ইভিএমে বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া পৌরসভায় যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাতে বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। এর চেয়ে প্রকৃষ্ট উদাহরণ আর কী হতে পারে?

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলের নেতাদের বিরুদ্ধে যেভাবে কথা বলছেন, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন, যখন যা খুশি তাই বলছেন, তার পরও সরকার তাদের গ্রেফতার করেনি, মামলা করেনি, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। কথা বলার বিষয়ে পৃথিবীর কোথাও এত স্বাধীনতা নেই। তাহলে তাদের কণ্ঠরোধ করা হল কীভাবে? হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এ বিষয়ে যে মন্তব্য করেছে তা অযৌক্তিক এবং মনগড়া।

সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- মাহবুবউল আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন ও সাখাওয়াত হোসেন শফিক, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সংস্কৃতি সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com